সোশ্যাল মিডিয়ার সচেতন ভাবে ব্যবহার করি।

সোশ্যাল মিডিয়ার সচেতন ভাবে ব্যবহার করি।
আমাদের দেশে অনেক মানুষ মারা গেছে ফেসবুক এর ভুল ব্যবহার করার কারনে। এর পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে ফেসবুক। বাংলাদেশে কয়েকমাস আগে ছেলে ধরার গুজবও এই ফেসবুকের মাধ্যমেই ছড়োনো হয় ৷

পদ্মা সেতুতে শিশুর রক্ত আর মাথা লাগার ওই গুজব শুধু ফেসবুকেই সীমবাদ্ধ থাকেনি, মানুষের মুখে মুখেও ছড়িয়ে পড়ে৷ আর তার পরিণতিতে জীবন হারাতে হয় অনেক মানুষের ফেসবুক গুজবের একটি বড় জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানে সত্য ঘটনার চেয়ে গুজবই বেশি ভাইরাল হচ্ছে। সল্প দামে ফোন আর অল্প দামে ডাটা পেয়ে মানুষ যা পারছে তাই শেয়ার করছে।

দুই দিন পর পর জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে দিচ্ছে। সব চেয়ে খারাপ লাগে তখন যখন দেখি শিক্ষিত মানুষ গুলাও এগুলা নিয়ে মজা নেয়, ট্রল করে ।
এই নিয়ে কয়েকটি গল্প শুনুন___
• অনেক দিন আগে এক শিল্পপতির ছোট বাচ্চাকে কিছু লোক অপহরণ করে নিয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পর পুলিশ সে বাচ্চা সহ অপহরণকারীদের ধরতে সক্ষম হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় তারা এমন মানুষ মানুষগুলাকে টার্গেট করত যাদের পিছনে হোমওয়ার্ক না করেই খুব সহজে সব কিছু জেনে নেয়া যেতো।

আর এই কাজে নাকি তারা ফেবুটাকেই ব্যবহার করতো। ফেসবুকে তারা কি ভাবে ব্যাবহার করেছিলো এবার আসি সেই কথায়, বাচ্চার মা যে কিনা সোশ্যাল সাইটে প্রচুর একটিভ একজন মানুষ ছিলেন। ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে কখন কোথায় যান, কি খান সব কিছুই তিনি শেয়ার দিতেন। বাচ্চা কোন স্কুলে পড়ে,কোন আইসক্রিম খায় তাও বাদ রাখতেন না। আর তা থেকেই তারা প্ল্যান করে কি ভাবে বাচ্চাকে অপহরণ করবে। শুধু প্ল্যানই করে নাই সফল ও হয়।

• রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে যান তাসলিমা বেগম রেনু। এসময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে বের করে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। মাহি-তুবা নামে উনার দুইটা বাচ্চা ছিলো,সামান্য একটা কারনে তারা তাদের মাকে হারায়।

• নারায়ণগঞ্জে মেয়েকে দেখতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন সিরাজ নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক বাবা। ছাড়াছাড়ি হওয়া স্ত্রীর কাছে থাকা ছয় বছরের মেয়েকে দেখতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। মেয়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তার স্ত্রীর বর্তমান স্বামী তাকে দেখে ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার দিলে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে সিরাজ নিহত হন।

আমরা আমাদের রিয়াল লাইফটাকে এমন ভাবে শেয়ার করে বেড়াই যে একবার ভেবে ও দেখি না এর কারনে আমাদের কত বাজে বাজে সিচুয়েশনে পরতে হতে পারে। আপনি দুই দিন পর পর দেখতে পাবেন অনেক মেয়েই কান্না কাটি করছে তাদের পিক দিয়ে কেউ আইডি খুলছে ,নানা রকম বাজে জিনিষ ছড়াচ্ছে বলে।আসলে এর পিছনে কে দায়ী ।

সে নিজেই কিন্তু মানুষকে সুযোগ করে দিচ্ছে,কিছু লাইক কমেন্টের জন্য সে নিজের প্রাইভেসি ঠিক রাখছে না। গত কয়েক বছর আগেও এমন ছিল না। মানুষের মানসিকতার মধ্যে পার্থক্য চলে আসছে। আগে যারা ভালো লেখালেখি করত,যাদের লেখা পড়লে নিজের কিছু লিখতে ইচ্ছে করত তারাই আজকাল টিনেজারদের মত ট্রেন্ডি, কপি, ১৮+ পোস্ট আপলোড করে।ট্রেন্ড ফলো করার নামে বস্তির ছেলে মেয়েদের মত বাজে বাজে পিক, ভিডিও, মিমস নিউজ ফিড কিংবা স্টোরিতে আপলোড করে।

একটি জিনিস কখনো সবদিক ভালো ও সব দিক খারাপ হবে না। ফেইসবুক ও এর বাহিরে পরে না। তবে আমরা এখনো এতটা সভ্য হতে পারি নাই যে এটাকে সম্পূর্ন রুপে ভালো ভাবে ব্যবহার করবো। এর মধ্যে এমন কিছু নাই যে এটাকে সম্পূর্ন রুপে ভালো ভাবে ব্যবহার করবো। তাই আসুন নিজে সতর্ক হন অন্যকে সতর্ক করি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
4 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • Unknown
    Unknown ৭ অক্টোবর, ২০২১ এ ১:৩২ PM

    socetonai mul lokkho

  • Unknown
    Unknown ৭ অক্টোবর, ২০২১ এ ২:০০ PM

    sobaike mana ocit

  • Unknown
    Unknown ৭ অক্টোবর, ২০২১ এ ৯:১৯ PM

    sob dik theke amader soceton hoite hbe

  • Unknown
    Unknown ৭ অক্টোবর, ২০২১ এ ৯:৫০ PM

    updesh ta valo laglo

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Edu 360 BD নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url