শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন আর কী খাবেন না জেনে নিন

আপনারা কি শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না পোস্টটি আপনাদের জন্য। শীতে সুস্থ থাকাটাই হচ্ছে সবচাইতে কঠিন কাজ। তাই শীতে কোন কোন খাবার খেলে সুস্থ থাকতে পারবেন সেগুলো খাওয়াটাই জরুরী। আজকে আমরা আলোচনা করব শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে সম্পর্কে।
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে সম্পর্কে। 

শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না

প্রকৃতির চারিদিকে কিছুদিন পরেই চলে আসছে শীতের আমেজ। শীতের সকালবেলায় শিশির ভেজা ঘাস, রাতের শেষ দিকে ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সকলকে সতেজ করে তুলবে। শীতের সময় ঠান্ডা জ্বর, ফ্লু ও নিউমোনিয়া সহ বিভিন্ন রোগ সহজেই শরীরকে কাবু করে ফেলে। শীতের সময় শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখাটাই অনেক কঠিন বিষয়। সেজন্য শীতের সুস্থ থাকার জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করার গুরুত্ব দেয়া লাগবে। 

আরো পড়ুনঃ কোলাজেন ট্যাবলেট এর উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আজকের আর্টিকেলে আমরা শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, সে সকল খাবার শীতে ডায়েটে রাখা উচিত, যেগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে সহজেই সংক্রমণকে পরাস্ত করতে পারে। 

যার ফলে রোগ হলেও যেন গুরুতর ভাবে অসুস্থ হবার ঝুঁকি কম হয়। আর সে সকল খাবার এড়িয়ে যেতে হবে যেগুলো খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাবে। ডায়েটে পুষ্টিকর খাবারের বৈচিত্র সুস্থ থাকার জন্য রাখা উচিত। এখানে শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না তার একটা তালিকা দেয়া হয়েছে।

শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন

শীতে সুস্থ থাকার জন্য এক কঠিন লড়াই লড়তে হয়। তাই এ সময় শরীরকে চাঙ্গা রাখতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। চলুন দেখে আসি শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন সেগুলো বিষয়ে।

ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার শীতের মৌসুমে বেশ উপকারী। সাইট্রাস জাতীয় ফল শরীরের এ চাহিদা পূরণের কোন বিকল্প নাই। কমলা, পাতিলেবু ভিটামিন সি এর যোগান দেবার পাশাপাশি ফাইবারের ঘাটতি ও মিটিয়ে থাকে।

মূল জাতীয় সবজিঃ মূল জাতীয় সবজি হচ্ছে গাজর, বিট, শালগম ইত্যাদি। এর সকল উদ্ভিদ শীতের মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এ জাতীয় সবজি খেলে ভালো কোলেস্টরেল বৃদ্ধি করতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে অনেক কার্যকরী।

ঘিঃ অনেকেই মনে করেন যে ঘি খেলে ওজন বেড়ে যায়। তবে অন্য সকল স্নেহ জাতীয় পদার্থের তুলনায় ঘি হল অনেক স্বাস্থ্যকর। এটা অস্থি সন্ধির সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এমনকি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও বৃদ্ধি করে থাকে।

পালং শাকঃ পালং শাক হচ্ছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এ ভরপুর এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে বহু গুণে সমৃদ্ধ। যা শীতের মৌসুমে আপনার সুপার ফুড হয়ে উঠতে পারে।

মধু ও গুড়ঃ শীতের সময় চিনির পরিবর্তে মধু কিংবা গুড় ব্যবহার করুন। মধু হচ্ছে খনিজ পদার্থ, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রত্যেকদিন সকালে এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। অপরদিকে ঘুরে প্রচুর পরিমাণ আয়রন রয়েছে। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন না

আমরা এতক্ষন শীতে সুস্থ থাকার জন্য কি কি খেতে হবে সে সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা শীতে সুস্থ থাকতে কি খাওয়া যাবেনা অর্থাৎ কোন কোন খাবার থেকে এড়িয়ে চলতে হবে সেগুলো বিষয়ে জানব। তাই চলুন দেখে নিই শীতের সময় কি কি এড়িয়ে গেলে শরীরের জন্য ভালো হয় সেগুলো বিষয়ে। শীতের সময় যত পারবেন ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কেননা ভাজাপোড়া খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট থাকে।

যা পরবর্তীতে হাই প্রেসার, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও মাশরুম, ডিম, টমেটো ও দই শীতের সময় এড়িয়ে চলাই ভালো। কেননা, এগুলো প্রত্যেকটাই শীতের আবহাওয়া অবাঞ্ছিত কিছু সমস্যা তৈরি করে থাকে। শীতের সময় চা কফি একটু বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু শীতের সময় সুস্থ থাকার জন্য চা কফি বেশি পরিমাণে পান করা অনুচিত। পনির বা বেশি চিনি দেওয়া খাবার ও শীতের সময় এড়িয়ে চলা ভালো।

শীতে যে খাবার শরীর সুস্থ রাখে

শীতকালে শরীরকে ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতিগত ও পরিবর্তনের কারণে এই সময় শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই যেন সব সময় লেগেই থাকে। তাই শীতে যত্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করে শীতকে উপভোগ করার জন্য শীতের কিছু খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা দরকার। তাই শীতে যে খাবার শরীর সুস্থ রাখে সেগুলো নিচে দেয়া হল।

  • কাঠবাদাম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভরপুর একটা পুষ্টিকর খাবার। কাঠবাদাম শরীরের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেলের সাথে লড়াই করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সেজন্য শীতের খাবার হিসেবে কাঠ বাদামের অনেক বেশি।
  • আদার চা শীতকালে না হলে হয়ই না। সকালে এক কাপ আদা সহ রং চা, এ যেন পরম এক পাওয়া। এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে থাকে।
  • ডিমের মধ্যে প্রয়োজনীয় নয়টি অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। আরও রয়েছে আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে ডিম প্রতিরোধে কার্যকর।
  • গাজর ও শীতের খাবার হিসেবে বেশ ভালো। গাজরের মধ্যে উচ্চ পরিমাণ বেটা ক্যারোটিন রয়েছে।
  • কমলা শীতের খাবার হিসেবে অনেক ভালো একটা সাইট্রাস জাতীয় ফল। এর মধ্যে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

উপসংহার

শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোস্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। 

আজ আর নয়, শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই শীতে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কী খাবেন না সে সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Edu 360 BD নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url