প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয় জেনে নিন

যারা প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয় সে সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি মূলত। এর পাশাপাশি এই আর্টিকালে আপনাদের জানাবো মাসিক না হলে কি প্রেগন্যান্ট হয় এবং মাসিকের কত দিন পর স*হবাস করলে গর্ভবতী হয় না এই সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন আজকের এই আর্টিকেলে তাই এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।
প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয় বিস্তারিত জানুন
অনেক মহিলা রয়েছেন যারা প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার পর তাদের মনে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন জাগে এবং এটা স্বাভাবিক কারণ কোন মহিলা প্রথমবার প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর খুবই চিন্তিত থাকে। যারা প্রথমবার প্রেগন্যান্ট হয়েছেন তাদের অবশ্যই প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয় এবং গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কত দিন পর বোঝা যায় ও মাসিক না হলে কি প্রেগন্যান্ট হয় এ সকল সম্পর্কে জেনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয়

গর্ভবতী হলে একজন মহিলার শরীরে কিন্তু অনেক রকম লক্ষণ প্রকাশ পায় বিভিন্ন লক্ষণ কিন্তু বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেতে শুরু করে এর মধ্যে একটি লক্ষণ হচ্ছে তার মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রেগনেন্সি ক্যানসীভ হওয়ার বা গর্ববতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায় চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

গর্ভবতী হবার কতদিন পর আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে যাবে তো এই বিষয়টা জানার আগে ওভুলেশন পিরিয়ড টাকে একটু জানা দরকার ওভুলেশন মানে আপনার ওভারি থেকে একটি ডিম্বাণু বের হওয়া তো সেটা আপনার পিরিয়ড সাইকেলর মিডিলে হয়ে থাকে আপনার সেকেন্ড পিরিয়ডের ১৪ দিন আগে কিন্তু আপনার ওভুলেশন হয়। 
যদি আপনার প্রতি মাসের ১০ তারিখ পিরিয়ড হয় সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার ২৬ তারিখে ওভুলেশন হবে তো ২০ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ এই সময়টাই কিন্তু আপনার গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত। এই সময়টাই কিন্তু আপনারা রিলেশন করলে প্রেগনেন্সি কনসিভ হয়। তো ফ্রেন্ডস এই সময় যখনই শুক্রাণু ডিম্বাণু মিলিত হয় নিষেকের পর যখন জাইগোট গঠন হয় সেই সময় কিন্তু প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

তো যখন গর্ভধারণ হয় না তখন প্রোজেস্টেরন হরমোন কিন্তু কম এবং জরায়ু খসে মাসিক হয়ে যায় ওভুলেশনের পর থেকে অর্থাৎ ফলিকলের ভেতর থেকে যখন ডিম্বাণুটি বের হচ্ছে সেই ফলিকল থেকে কিন্তু প্রোজেস্টেরন হরমোন প্রোডিউস হতে শুরু করে এবং সেই প্রোজেস্টেরন হরমোন কিন্তু জরায়ুর দেয়াল মোটা করে যাতে ভ্রূণ এসে রোপন হতে পারে।

যখন ডিম্বানুর শুক্রানুর দ্বারা নিষেক হয়ে জাইগোট গঠন হয় সেই সময় কিন্তু প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এই হরমোন কিন্তু আপনার পিরিয়ড বন্ধ করে দেয়। তো ফ্রেন্ডস এই শুক্রানো ডিম্বাণু মিলিত হওয়ার পরে জরায়ু দেওয়ালের এসে রোপণ হতে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যায় এবং ১০ তারিখে যে আপনার পিরিয়ড আসার ডেট সেই ১০ তারিখে কিন্তু আপনার আর পিরিয়ড হবে না। 

তো এই পিরিয়ড বন্ধ হওয়ায় কিন্তু প্রেগনেন্সির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ এবং প্রত্যেকটি মহিলার ক্ষেত্রেই এই লক্ষণ প্রকাশ পাবার। অন্যান্য লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও মাসিক বন্ধ হওয়া এই লক্ষণ কিন্তু প্রত্যেকটি মহিলার মধ্যে প্রকাশ পাবে। 

তো পিরিয়ড ডেটে যখন পিরিয়ড মিশ হচ্ছে পিরিয়ড হচ্ছে না তখন আপনারা অবশ্যই প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটে টেস্ট করবেন এবং রেজাল্ট দেখে শিওর হন প্রেগন্যান্ট হয়েছে নাকি হননি।

মাসিক না হলে কি প্রেগন্যান্ট হয়

অনেকেরই মাসিকের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পরেও দুশ্চিন্তা করেন যে গর্ভবতী হয়ে পড়লেন কিনা তাই আমাদের সবার জেনে রাখা উচিত মাসিক না হলেও গর্ভবতী হতে পারেন। মাসিক না হলে প্রেগন্যান্ট হওয়ার কিছু লক্ষণ রয়েছে চলুন সেগুলি জেনে নেওয়া যাক।
  • মর্নিং সিকনেসঃ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে মর্নিং সিকনেসকে ধরা হয়ে থাকে তবে এটি রাতেও দেখা দিতে পারে এর কারণে মহিলাদের শরীরে প্রচন্ড দুর্বলতা অনুভব হবে। এছাড়া মর্নিং সিকনেস হলে প্রচন্ড পরিমাণে মাথা ঘুরবে। এই লক্ষণটি সাধারণত গর্ভধারণের ১মাস পর থেকে বেশি দেখা যায়। 
  • স্তন ভারী এবং ফুলে যাওয়াঃ গর্ভধারণের সময় স্তন ফুলে যাওয়া এবং ভারী হওয়া অনুভূতি দেখা দিতে পারে এবং অনেক সময় শরীরের তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।
  • মাথা ঘোরা এবং মুড সুইংঃ গর্ভধারণের ফলে বেশিরভাগ মহিলারই মুড সুইমিং হয়ে থাকে যার কারণে অল্পতে রেগে যাওয়া এবং অল্পতেই আনন্দ হয়ে যাওয়া এবং মাঝে মাঝে মাথা ঘুরানো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে নিবেন।
  • শরীরে ক্লান্তি অনুভবঃ গর্ভবতী হওয়ার প্রধান যে কারণ সেটি হচ্ছে শরীরে ক্লান্তি অনুভব করা।গর্ভধারণের এক সপ্তাহ পর থেকেই এই ক্লান্তির শরীরে অনুভব হতে পারে।
  • ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জঃ মাসিক মিশর পরেও যদি অনিয়মিত ব্লিডিং এবং ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ দেখা যায় তাহলে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে নিবেন কারণ এটা একটি প্রেগনেন্সির লক্ষণ।
  • খাবারে রুচির পরিবর্তনঃ কোন মহিলা যখন প্রেগন্যান্ট হয় তখন তার অপছন্দনীয় খাবারগুলো পছন্দ হতে শুরু করে এবং ক্ষুধার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং রাতে অথবা দিনে যেকোনো সময় ক্ষুধা লাগে।

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কত দিন পর বোঝা যায়

অনেক মহিলাদেরই মনে একটি কমন প্রশ্ন জাগে সেটি হচ্ছে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কত দিন পর বোঝা যায়। সাধারণত মাসিক বা পিরিয়ড মিশ হওয়ার ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ৯০% মহিলাদের গর্ভধারণের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে তবে অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো আগেও প্রকাশ পেতে পারে। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ গুলো ভালোভাবে প্রকাশ পেতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।

মাসিক মিস হওয়ার ১০ দিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়

আপনার কি পিরিয়ড মিশ হয়েছে? এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কি ভাবছেন আপনি প্রেগনেন্ট কিনা এর উত্তর আপনি পেতে পারেন প্রেগনেন্সি টেস্ট করে। অনেক মহিলারাই জানতে চেয়ে থাকেন পিরিয়ড মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করলে সঠিক রেজাল্ট পাওয়া যাবে। প্রতিটি মেয়ের জন্য প্রেগনেন্সি সুন্দর এবং উত্তেজনাময় মুহূর্ত। সব বিবাহিত মহিলা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে।
তবে পিরিয়ড মিশলে নিশ্চিত করে বলা যাবে না আপনি প্রেগন্যান্ট কিনা কারণ প্রেগনেন্সি ছাড়া বিভিন্ন কারণে পিরিয়ড মিস হতে পারে। তাই যদি পিরিয়ড মিশরের সাথে সাথে গর্ভধারণের অন্যান্য লক্ষণসমূহ আপনার শরীরে দেখতে পান তবেই প্রেগনেন্সি টেস্ট করুন। 

সঠিক সময়ে ওভুলেশনের সময় যদি আপনি স*হবাস করেন আর পরবর্তী পিরিয়ড যদি মিস হয় তাহলে প্রেগনেন্সি টেস্ট করান। পিরিয়ড মিস হওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিন পর পরীক্ষাটি করুন এতেই সঠিক রেজাল্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

মিলনের কত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়

মিলনের কতদিন পর প্রেগনেন্সির টেস্ট করালে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় তা অনেকেই জানতে চেয়ে থাকেন তাদেরকে বলবো মিলনের ২১ দিন পর আপনি প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে পারেন। প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। 

টেস্ট কিটের মাধ্যমে খুব সহজে ঘরে বসে আপনি টেস্ট করাতে পারবেন আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা তাছাড়া বর্তমানে যেকোন ওষুধের দোকানে এটা পাওয়া যায়।

সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে

অনেক মহিলারাই জানতে চেয়ে থাকেন সহ*বাসের কতদিন পর বাচ্চা পেটে আসে? যখন কোন একজন নারীর মাসিক ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ১০ বা ১৪ দিনের মধ্যে সহ*বাস করে তখন সহ*বাসের পরে যে স্পাম বা বীর্য রয়েছে সেটি একজন নারীর মধ্যে ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে আর সে দিক থেকে বলা যায় যে সহ*বাস করার সাত থেকে ১৪ দিনের মধ্যে পেটে বাচ্চা আসে।

তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটা হবে বিষয়টা সেরকম নয় বরং সেটা মানুষ ভেদে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আশা করি সহ*বাসের কতদিন পর বাচ্চা পেটে আসে সেই সম্পর্কে আপনি এই থেকে জানতে পেরেছেন।

মাসিকের কত দিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয় না

এখন জানাবো মাসিকের কতদিন আগে বা পরে স*হবাস করলে গর্ভবতী হয় না। পিরিয়ডের রক্তক্ষরণ শুরু হওয়া দিন থেকে প্রথম ৭ দিন এবং শেষের সাত দিন আপনি যদি স*হবাস করেন তাহলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে এবং ওই সময়টাকে স*হবাসের নিরাপদ সময় হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
তবে এই শর্ত শুধুমাত্র সেই সকল নারীদের জন্য যাদের পিরিয়ড নিয়মিত ২৬ থেকে ৩১ দিন পর পর হয়ে থাকে। আশা করি এবার জানতে পেরেছেন মাসিকের কতদিন পর স*হবাস করলে গর্ভবতী হয় না।

গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর বমি হয়

গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় বমি হতে পারে তবে এটি সাধারণত প্রথম ত্রৈমাসিকের সময় যা গর্ভাবস্থায় প্রথম ১২ সপ্তাহের সময় হয়। কিছু মহিলা গর্ভধারণের ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে বমি অনুভব করতে পারে এবং অন্যরা এটি নাও অনুভব করতে পারে।

লেখকের শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলে প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছে এর পাশাপাশি মাসিক না হলে কি প্রেগন্যান্ট হয় এবং মাসিকের কত দিন পর স*হবাস করলে গর্ভবতী হয় না সেই সম্পর্কেও জানিয়েছি আশা করি আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়েছেন।

এই আর্টিকেলটি পরে যদি আপনি কোন কিছু না বুঝে থাকেন তাহলে নিচে কমেন্ট করে আমাদেরকে জানাতে পারেন অথবা আপনার যদি প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করে আমাদেরকে জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Edu 360 BD নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url