সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয়, লক্ষণ করণীয় কি জানুন

সিজারের অপারেশনটা একটু মারাত্মক। দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সিজারের পর শরীরে প্রতি যত্ন নেয়াটা খুবই জরুরী। শরীরের অযত্ন করলে ইনফেকশন সহ নানা রকম সমস্যা হতে পারে তাই আজকের এই আর্টিকালে সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয় এবং সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ, করণীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয়, লক্ষণ করণীয় কি জানুন
আপনি যদি একজন মা হয়ে থাকেন এবং সিজার করে থাকেন বা সিজার করার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয় এবং সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

সিজারের পর শরীরের প্রতি যত্ন না নিলে এই সব মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে তাই এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এই পোস্টে আমরা আপনাদের সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয় কি, লক্ষণ ইনফেকশন কেন হয় সকল খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
পোস্ট সূচিপত্রঃ 

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে নরমাল ডেলিভারির চেয়ে সিজারিয়ান ডেলিভারি সংখ্যা বেশি দেখা যায়। সেই সাথে সিজারের পর ইনফেকশন এর সংখ্যা কম নয় তাই আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাবো সিজারের ইনফেকশন কেন হয় এবং কি কারনে হয় প্রায় প্রতিটা গর্ভবতী মহিলাই জানতে চাই। 


সিজারে ইনফেকশন অনেক কারণে হতে পারে। আপনি যদি কিছুদিন আগে সিজার করে থাকেন বা করার পরিকল্পনা করছেন তাহলে সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ এবং সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ কি কি

আজকের আর্টিকেলে আমাদের মূল বিষয় হচ্ছে সিজারের পর কেন ইনফেকশন হয় এবং লক্ষণ গুলো কি কি সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের জানানো। এবং সিজারের পর আপনার ইনফেকশন হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন খুঁটিনাটি সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। 

ইনফেকশনের বর্ণনা দিতে গিয়ে একজন বলেছিলেন জবাই করার কষ্ট সহ্য করা যায় কিন্তু ইনফেকশনের ড্রেসিং ও সেলাই এর কষ্ট সহ করা যায় না। কোন মহিলা যাতে সিজারের পর ইনফেকশন না হয় সেজন্য খুবই সচেতন থাকা প্রয়োজন। সিজারের পর নানা সমস্যার কারণে ইনফেকশন হতে পারে। সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
  • সিজারের কাটা জায়গা গুলি ফুলে এবং লাল হয়ে যাওয়া।
  • কাটা জায়গা থেকে পুজ বা দুর্গন্ধ বের হওয়া।
  • পেট বা ক্ষত জায়গা প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।
  • গায়ে জ্বর আসতে পারে এবং জ্বর জ্বর ভাব হতে পারে।
  • প্রসাব করার সময় কষ্ট হতে পারে।
  • মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত বা গন্ধযুক্ত তরল আসতে পারে।
  • গোটা শরীর ফুলেও যেতে পারে।
বর্তমান সময়ে সিজারের ডেলিভারি পর ইনফেকশন সারা পৃথিবীতে হয় অনেকে আছেন যারা ইনফেকশনের কথা শুনে ভয় পান কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছুই নাই। কারণ ইনফেকশনের কারণে কোন মানুষ মারা যায় না তবে রোগীর জন্য অনেক কষ্টদায়ক। 

উপরের ইনফেকশনের কিছু লক্ষণ উল্লেখ করেছি যেগুলো দেখা দিলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। আশা করি সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো জানতে পেরেছেন।

সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয় কি

সাধারণত অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে সিজারের পর ইনফেকশন হলে কি করবেন এবং করণীয় কি। সিজারের রোগীর জন্য আলাদা আলাদা জিনিসপত্র ব্যবহার করা উচিত এবং ডাক্তারের নির্দেশে খাবার খাওয়া উচিত। আজকের এ আর্টিকেলে এই অংশে আমরা সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের জানাবো। 


হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ , রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়া, শরীরে পুষ্টির অভাব, সিজারের পর আত্মীয়-স্বজন দেখা-সাক্ষাৎ করা এইসব কারণেও ইনফেকশন হতে পারে। তাই সিজারের পর ইনফেকশন হলে তা থেকে মুক্তির উপায় গুলো কি কি সেগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
  • সিজারের পর কাটা জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • সিজারের সময় জীবাণুমুক্ত পানি এবং অন্যান্য জীবাণুমুক্ত জিনিসপত্র ব্যবহার করা তাহলে ইনফেকশন থেকে মুক্তি পেতে পারেন। 
  • সিজারের পর রোগীকে বেশি বেশি হাঁটাচলা করতে হবে।
  • কাটা জায়গায় ঘাম বা ময়লা জমতে দেয়া যাবে না।
  • ঠিকমতো পানি খেতে হবে যাতে প্রস্রাব ঠিকমতো হয়।
  • সুষম খাওয়ার যুক্ত খাবার খেতে হবে এবং বেশি বেশি শাকসবজি খেতে হবে। এছাড়াও ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে হবে যেমন মালটা, আমলকি, কমলা লেবু।
  • মিনিমাম ৬ সপ্তাহ স*হবাস করা থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এমন খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে যাতে কাটা জায়গায় কোন চাপ না পরে।
  • যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি আছে সেই সব খাবার খেতে হবে।

সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয়

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে নরমাল ডেলিভারি চাইতে সিজারিয়ান ডেলিভারি সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই সাথে সিজারের পর ইনফেকশনের সংখ্যা কম নয়। আপনি যদি সিজার করার পরিকল্পনা করে থাকেন বা সিজার করে থাকেন তাহলে আপনার মনের প্রশ্ন জাগতে পারি সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয় 

বা সিজারে পর ইনফেকশন হয়েছে কিনা সেটা কিভাবে বুঝবেন সে সম্পর্কে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সিজারের পর কি কি কারণে ইনফেকশন হতে পারে সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
  • সিজারের রোগীর পোশাক-আশাক পরিষ্কার না থাকা।
  • সিজার করার সময় জিনিসপত্র ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত দুর না করার কারণে।
  • মেডিকেল বা হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য ইনফেকশন হতে পারে।
  • সিজারের ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার না রাখা।
  • রোগীকে ঘরে নেওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন থাকা সাক্ষাৎ করার কারণেও ইনফেকশন হতে পারে।
  • সিজারের সময় জীবাণুমুক্ত পানি ব্যবহার না করা।
  • সিজার করার পর কোন কিছু শরীরের ভিতরে থেকে যাওয়াতেও ইনফেকশন হতে পারে।
  • রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে ইনফেকশন হয়।
  • সিজারের পর সেলাই করার সময় সঠিকভাবে রক্তনালী বন্ধ না করার কারণে ইনফেকশন হতে পারে।
  • হাসপাতালের এক বেড থেকে অন্য বেডের দূরত্ব কম থাকার কারণে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রামন ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে ইনফেকশন হতে পারে।
ওপারের উল্লেখিত কারণ গুলোর জন্য ইনফেকশন হতে পারে তাই ইনফেকশন হওয়ার আগে সকল মহিলাদের সচেতন থাকা উচিত। আশা করি সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয় বুঝতে পেরেছেন।

সিজারের পর কাটা স্থানের যত্ন যেভাবে নিবেন

কোন কারনে যদি ডেলিভারি টা সিজারিয়ান সেকশন এর মাধ্যমে করতে হয় তাহলে সিজারের পরে রোগীর সুস্থতা চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কেননা সিজারিয়ান এমন একটি অপারেশন যে অপারেশন করার পর নিজের যত্ন নিতে হয় এবং বাচ্চার যত্ন নিতে হয়। 

তাই আর্টিকেলের এই অংশে সিজারের পর কাটা স্থানের যত্ন কিভাবে নিবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন তাহলে সিজারের পর খুব সহজেই কাঁটা স্থানের যত্ন কিভাবে নিবেন জেনে নেওয়া যাক। সিজারের রোগীকে হাঁটাচলা করতে হবে এবং যখন রোগী শুয়ে থাকেন তখন পায়ের পাতা নড়াতে হবে। 

সিজারের পর রোগীকে একটু বেশি পানি খেতে হবে যাতে শরীরে পানির পরিমাণ কম না হয়ে যায়। হাঁচি বা কাশি করার সময় সেলাইয়ের কাটা জায়গাটা আলতো চাপ করে ধরে রেখে তারপর হাঁচি কাশি করতে হবে। সিজারে রোগীর বাচ্চা দেখাশোনা করার জন্য একজন সাহায্যকারী থাকা প্রয়োজন। 


ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়া। ৬ মাসের আগে কোন ভারী কাজ করা যাবে না। তিন মাসের আগে স্বামীর সঙ্গে স*হবাস করা যাবে না। কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না এবং বুকের দুধ বাড়াবে এমন খাবার খাওয়া। যেমন প্রোটিনযুক্ত এবং টক জাতীয় খাবার খাওয়া। সেলাই জায়গা সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন সিজারের পর কাটা স্থানের যত্ন কিভাবে নিবেন।

শেষ কথা

আজকের এ আর্টিকেলে আপনাদের সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে জানিয়েছি যে লক্ষণগুলি আপনার দেখা দিলে খুবই তাড়াতাড়ি একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের অনুসারী ওষুধ খেতে হবে। 

এছাড়াও ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি উক্ত আলোচনায় সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে আপনাদেরকে জানিয়েছি যেগুলো মেনে চললে সিজারের ইনফেকশন থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়াও অনেক মা-বোনরা প্রশ্ন করে থাকেন সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয় যে প্রশ্নের উত্তরটি ও দিয়েছি। 

এবং একজন মহিলা কিভাবে সিজারের পর কাটা স্থানের যত্ন নিবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আশা করি আপনি পড়েছেন এবং উপকৃত হয়েছে। এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে অন্যদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। আপনার যদি আর কোন প্রশ্ন থেকে তার কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Edu 360 BD নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url